ভবানীপুরে প্রিয়াঙ্কা জিতলে বিরোধী দলনেতার পদ ছাড়বেন শুভেন্দু অধিকারী



বি.বি নিউজ ওয়েবডেস্কঃ জমে উঠেছে ভবানীপুরের উপনির্বাচনের শেষবেলার প্রচার। রবিবার ছুটির দিন ছিল আরও জমজমাট। একদিকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সভা।

অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের সমর্থনে ছিলেন বিজেপি নেতা মনোজ তেওয়ারী, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সভা। বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল জয়ী হলে, তিনি যে তাঁর পদ ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত সেকথা এদিন ভবানীপুরের জনসভায় ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী।

সুধীর স্ট্রিটে এদিন বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের সমর্থনে বক্তব্য রাখছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। কেন ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন? সেই প্রশ্ন তুলে কড়া তোপ দাগেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তাঁর মন্তব্য, ‘এখানকার জয়ী তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অসুস্থ নয় বা দলবদল করেননি। তাহলে কেন এই কেন্দ্রের ওপর ভোট চাপিয়ে দেওয়া হল?’

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সাধারণত ভোট হলে ৩ কোটি টাকা খরচ হয়। কিন্তু উপনির্বাচনে জনগনের পকেটের প্রায় ৫ কোটি টাকা খরচ হবে।’ ভবানীপুরের নির্বাচনী প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘ভ মানে ভবানীপুর, ভ মানে ভারতবর্ষ। এখান থেকে ভারতবর্ষ পরিচালনা হবে।’

এদিন শুভেন্দু মমতার ভবানীপুরের মানে নিয়েও সমালোচনা করেন। শুভেন্দুর কটাক্ষ, ‘উনি বলছেন ভ মানে ভবানীপুর ভ মানে ভারতবর্ষ। আমি বলছি ভ মানে ভোটে হারব আমি। ভ-এর তিন মানে ভাতা, ভিক্ষা, ভর্তুকি।‘

এদিন ১৯৯৬ সালের কেরলের বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গ তুলে এনেছেন শুভেন্দু। তুলে এনেছেন ৪ বছর আগে হিমাচল প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের কথাও। তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে কেরলে এলডিএফ জয়ী হয়েছিল। অচ্যুতানন্দজী হারলেন অন্য লোক মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ৪ বছর আগে হিমাচলে ভোট হল। বিজেপি জিতলো। প্রেমকুমার ধুমল হারলেন। তাঁকে দল মুখ্যমন্ত্রী করেনি। নন্দীগ্রামে যে হেরেছে তিনি ভবানীপুরে আর একটা ভোট চাপিয়ে দিয়েছেন।’

এদিন বিরোধী দলনেতা বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঘোষণা করলেন, তিনি পদ ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত। শুভেন্দু বলেন, ‘আমি শুভেন্দু অধিকারী বলে যাচ্ছি প্রিয়াঙ্কাকে জেতান আমি দিল্লির নেতাদের বলব আমার চেয়ারটা প্রিয়াঙ্কাকে দিয়ে দেওয়ার জন্য। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন আমার চেয়ারটা ধরে রাখতে হবে। আমাকে একটা একটা করে ভোট দিন।’

error: