ভারতে দিনে নারীদের পুজো আর রাতে গণধর্ষণ করা হয়, কমেডিয়ান বীর দাসের মন্তব্যে তোলপাড় নেট দুনিয়া



বি.বি নিউজ ওয়েবডেস্ক: বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলে বিতর্কে জড়ালেন জনপ্রিয় স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান বীর দাস৷ সোমবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ‘আই কাম ফ্রম টু ইন্ডিয়া’ নামে একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি৷ ৬ মিনিটের ভিডিও ক্লিপ সেই থেকে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল৷ যা শুনে নেটিজেনদের অনেকের মনে হয়েছে কমেডির আড়ালে বীর দাস ভারতকে অপমান করেছেন৷

স্ট্যান্ড আপ কমেডির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বীর দাসকে ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ কেনেডি সেন্টারে ডাকা হয়েছিল৷ সেখানে তাঁর পারফর্মম্যান্স দর্শকদের হাততালি কুড়লেও ভারতে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক৷ ভিডিওর শেষে বীর দাস দুটো ভারতের মধ্যে তুলনা টানতে গিয়ে যে কথাগুলি বলেন সেগুলি শুনেই ক্ষেপে লাল নেটিজেনদের একাংশ৷

বীর দাস বলেন, আমি এমন ভারত থেকে এসেছি যেখানে দিনে মেয়েদের পুজো করা হয়৷ রাতে গণধর্ষণ৷ আমি এমন ভারত থেকে এসেছি যেখানে ছোটরা মাস্ক পরে একে অপরের সঙ্গে হাত মেলায় আর নেতারা মাস্ক ছাড়া একে অপরকে আলিঙ্গন করে৷ আমি এমন ভারত থেকে এসেছি যেখানে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৯০০০৷ তার পরেও আমরা খোলা আকাশের নীচে ঘুমোই৷

আমি এমন এক ভারত থেকে এসেছি যেখানে জনসংখ্যার একটা বড় অংশ ৩০-এর নীচে তা সত্ত্বেও আমরা ৭৫ বছর বুড়ো নেতাদের মুখে ১৫০ বছরের পুরনো আইডিয়ার কথা শুনি..৷ আমি এমন ভারত থেকে এসেছি যেখানে পিএম কেয়ার্স নিয়ে কোনও তথ্য পাই না৷ আমি এমন ভারত থেকে এসেছি যেখানে আমরা নিজেদের নিরামিশাষী বলে গর্ব বোধ করি আর সেই কৃষকের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিই৷

বীর দাসের কমেডিতে দ্বিধাভক্ত সোশাল মিডিয়া৷ কেউ কেউ তাঁর পারফরম্যান্সের তারিফ করেছেন৷ আবার কেউ তীব্র সমালোচনা করেছেন৷ বিদেশি দর্শকদের সামনে ভারতের জ্বলন্ত নানা সমস্যার কথা তুলে তিনি কমেডি নন দেশের অপমান করেছেন৷

বিজেপি নেত্রী প্রীতি গান্ধী লেখেন, ‘আপনি এমন ভারত থেকে এসেছেন যে দেশের বদনাম করে নিজের পেট চালান৷ আপনি এমন এক দেশ থেকে এসেছেন যেখানে বাকস্বাধীনতার নামে দেশের বদনাম করা হয়৷’

অনসূল সাক্সেনা লেখেন, ‘হিন্দু দেবীদের পুজো করা বন্ধ করা হলেই কী ভারতে ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে? যে দেশে মেয়েদের পুজো হয় না সেখানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে না৷ তাই তো?’ আরও এক টুইটারাইট লেখেন, ‘দিনে মেয়েদের পুজা আর রাতে গণধর্ষণ.. এটা কী ধরণের কমেডি বলতে পারেন? আপনি নিজেই হয়তো এই কাজটা করেন৷’ আরেক সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারী লেখেন, এরাই গোটা বিশ্বে প্রচার করে বেড়ায় ভারতে এখনও ‘স্নেক চার্মারদের’ দেশ৷

ভিডিও নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হতেই বীর দাস তাঁর কাজের সাফাই দিয়ে বলেন, অনেক সমস্যার মধ্যেও ভারত যে ‘মহান’ এটা বোঝাতেই ভিডিওটি আপলোড করেছেন৷ স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান জানান, ভিডিওটা একটা স্যাটায়ার (উপহাস)৷ ভারতের মধ্যে যে দ্বৈততা আছে সেখান থেকেই এই দু’ধরনের বৈসাদৃশ্য ঘটে৷ প্রত্যেক দেশের মত ভারতের ভালো-খারাপ দিক আছে৷ এগুলো কোনওটাই সিক্রেট নয়৷ তিনি নেটিজেনদের পুরো ভিডিও দেখার আবেদন করেন৷ তাঁর কথায়, জন এফ কেনেডি সেন্টারের দর্শকরা শ্রদ্ধা এবং সম্মানের সঙ্গে ভারতের প্রশংসায় হাততালি দিয়েছে৷ কোনও ঘৃণা মনোভাব থেকে নয়৷

error: