রাজ্য কনস্টেবল পদের আবেদনপত্রে হিজাব পরা ছবি, আবেদনপত্র খারিজের মামলায় প্রমাণে ব্যবহার করা হলো কুরআনের আয়াত



বিবি নিউজ ৩৬৫ ডেস্কঃ হিজাব পরা ছবি দেওয়ায় মহিলা কনস্টেবল পদে চাকরির আবেদনপত্র বাতিল হয় ৷ এই অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন একাধিক মুসলিম মহিলা চাকরিপ্রার্থী ৷ আর এ নিয়ে বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মামলা নিষ্পত্তির উপরে নির্ভর করবে রাজ্যে কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ ৷ আগামী ৬ই জানুয়ারি মামলাটি শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে ৷ ওই দিন অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজ্য সরকারের হয়ে বক্তব্য পেশ করার জন্য হাজির থাকবেন ৷

মামলার বয়ান অনুযায়ী, রাজ্যে কনস্টেবল পদে প্রায় সাড়ে আট হাজার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে ৷ সেই সময় মহিলা কনস্টেবলের শূন্যপদ ছিল ১১৯২ টি ৷ সেই পদে যে সকল মুসলিম মহিলা চাকরিপ্রার্থী হিজাব পরা ছবি আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের সবার আবেদনপত্র বাতিল করে ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার রাজ্য সরকার ৷ সেই নিয়ে গত ২৪শে সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন সোনামণি খাতুন, হাফিজা খাতুন-সহ আরও বেশ কয়েকজন মহিলা চাকরিপ্রার্থী ৷

সেই মামলা করার দু’দিন পরেই অর্থাৎ, ২৬শে সেপ্টেম্বর কনস্টেবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয় ৷ সেই মামলার শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ও ফিরদৌস সামিম বলেন, ‘‘এটা একটা ধর্মীয় রীতি ৷ এর ভিত্তিতে কাউকে চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত করা যায় না ৷ কোরানের আয়াত ৫৯-এ স্পষ্ট করে বলা আছে, মুসলিম মহিলাদের মাথায় কাপড় দিতে হবে ৷ এখানে দেখা যাচ্ছে, আবেদনকারী মহিলা চাকরিপ্রার্থীদের মাথায় দেওয়া কাপড় ফেসিয়াল এক্সপ্রেশনে কোন সমস্যা সৃষ্টি করছে না ৷ তা সত্ত্বেও তাঁদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে ৷

অন্যদিকে, রাজ্যের তরফে আইনজীবী চৈতালি ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘পুলিশ একটা ডিসিপ্লিন ফোর্স ৷ সেখানে বলা আছে মাথা ঢাকা কোন ছবি দেওয়া যাবে না ৷ তাই আবেদনকারীদের অনলাইন আবেদন গ্রহণ করা হয়নি ৷’’ এর পাল্টা মামলাকারীদের তরফে বলা হয়, “মুসলিমদের এটা যেমন ধর্মীয় রীতি ৷ শিখদের ক্ষেত্রেও পাগড়ি ব্যবহারের রীতি আছে ৷’’

এর পরেই বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় মামলাকারীদের আইনজীবীর এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্মতি জানান ৷ তিনি রাজ্যের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, ‘‘তাহলে শিখরা কি পুলিশে নিযুক্ত হয় না ? তাঁরা তো মাথায় পাগড়ি পরেন !’’ এর পর বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় এই মামলা আপাতত স্থগিত রাখার কথা জানিয়ে, ৬ই জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিনধার্য করেন ৷

আগামী ৬ই জানুয়ারি ফের মামলাটি শুনানির জন্য রাখা হয়েছে ৷ মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস সামিম বললেন, ‘‘এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মুসলিম মহিলাদের পুলিশ কনস্টেবল পদের নিয়োগে বাধাদান করছে ৷ ধর্মের ভিত্তিতে প্রভেদ করে, তাঁদের চাকরির ক্ষেত্রে সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে ৷ বিচারপতি নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই নিয়োগ-প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ এই মামলা নিষ্পত্তির উপরে নির্ভর করবে ৷ আগামী ৬ই জানুয়ারি ফের এই মামলার শুনানির জন্য রাখা হয়েছে ৷’’

error: