ঐক্য বাংলার শুরু করা আন্দোলনকে সফল করল সমস্ত বাঙালি জাতীয়তাবাদী দল: রবীন্দ্র সরোবরে বন্ধ ছট পুজা


নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: অবশেষে সমস্ত আশঙ্কার অবসান হল। সুপ্রিম কোটের রায়কে মান্যতা দিল প্রশাসন।
এই বছর রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো হল না। অক্ষুণ্ণ থাকল রবীন্দ্র সরোবরের পরিবেশ।

আজকের এই কৃতিত্বের পথের পথনির্দেশক হিসেবে নজির গড়েছে বাংলার প্রথম মুক্তপন্থী বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠন ‘ঐক্য বাংলা’।

‘ঐক্য বাংলা’র অন্যতম নেতা অভিজিৎ গুহ নিয়োগী জানালেন , ” রবীন্দ্র সরোবর শুধু “কলকাতার ফুসফুস’ নয়,এটি বাংলার একটি ঐতিহ্য। যেভাবে গত দু বছর পরিবেশ আদালতের রায়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রবীন্দ্র সরোবরে ছটের নামে তান্ডব চালায় বহিরাগতরা সেটা একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়। তাই এবার প্রথম থেকেই আমরা এর বিরুদ্ধে যথাসাধ্য জনমত গঠন ও উপযুক্ত কর্মসূচি গ্ৰহণ করেছি। ”

কি কি ভাবে জনমত গঠন ও অন্যান্য কর্মসূচি গ্ৰহণ করল ‘ঐক্য বাংলা’ ?

ঐক্য বাংলার সাধারণ সম্পাদিকা সুলগ্না দাশগুপ্ত জানালেন , “গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আমরা সামাজিক মাধ্যমে ক্রমাগত জনমত গঠন করে চলেছি যাতে রবীন্দ্র সরোবরের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকে। বাংলা জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে আমরাই প্রথম যারা বিষয়টি নিয়ে সরব হই। রবীন্দ্র সরোবরের পরিবেশ রক্ষার্থে আমরা সচেতন বাঙালি নাগরিকদের কাছ থেকে সই সংগ্রহ করি। এছাড়াও আমরা নিরলস ভাবে রাস্তায় নেমে পোস্টারিং কর্মসূচি , লিফলেট বিলির পাশাপাশি সমস্ত প্রশাসনিক দপ্তরেও আবেদন জানাই। পরবর্তীতে আমাদের দেখাতে কি অন্যান্য বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠন এগিয়ে আসেন। ছট পুজোর দিনে রবীন্দ্র সরোবর চত্বরে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করতে দেখা যায় একাধিক বাঙালি সংগঠন কে। তাঁদের প্রত্যেককে আমার রক্ত জবা অভিনন্দন – আমাদের সকলের চেষ্টায় আজকে যেবাঙালির গর্ব কলকাতা রবীন্দ্র সরোবর কে আমরা থেকে রক্ষা করতে পেরেছি এর কৃতিত্ব প্রত্যেকটি বাঙালির।”

প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে বলতে গিয়ে অভিজিত বাবু আরো বলেন , ” আমরা একাধিকবার রবীন্দ্র সরোবর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে কথা বলি। তাঁদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে আমরা KMDA কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠাই। তারপর আমরা রবীন্দ্র সরোবর থানায় স্মারকলিপি প্রদান করি। তাঁরা আমাদের সঙ্গে খুবই ভালো ব্যবহার করেন ও জানান যে তাঁরা তাঁদের দিকে সবরকম চেষ্টা করবেন। আমরা তাঁদেরকেও সাধুবাদ জানাই যেভাবে তারা আদালতের রায়কে মান্যতা দেওয়ার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ”

পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতাকে কিভাবে দেখছে ‘ঐক্য বাংলা’ ?

‘ঐক্য বাংলা’র দাবি তাঁদের আবেদনে সাড়া দিয়ে পুলিশ ও প্রশাসন যথেষ্ট সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
এই প্রসঙ্গে ‘ঐক্য বাংলা’র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ঐক্যযোদ্ধা সৌম্য চৌধুরী জানান , ” আমরা কেএমডিএ কে চিঠি দিই , আমরা রবীন্দ্র সরোবর থানায় স্মারকলিপি প্রদান করি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী রবীন্দ্র সরোবরের গেটে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। সুতরাং বলাই যায় যে পুলিশ ও প্রশাসন আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে অত্যন্ত সদর্থক ভূমিকা পালন করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে এইবছর রবীন্দ্র সরোবরে ছট হল না। ”

তবে এই জয় কি শুধুই ‘ঐক্য বাংলা’র জয় ?

ঐক্য বাংলার তরুণ সদস্য দেবায়ন সিংহ জানান , ” রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো না হওয়ার বিষয়ে সর্বপ্রথম সরব হয়েছিলাম আমরা। তারপর আমাদের দেখাদেখি অন্য বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠনও এই বিষয়ে সরব হয়। সুতরাং এই জয় আপামর বাঙালি জাতির জয় , সকল বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠনের জয় তথা সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সচেতন নাগরিকের জয় হলেও এই জয়ের পথিকৃৎ কিন্তু ‘ঐক্য বাংলা’ই।

ছটের দিনও পথে নেমেছিল ‘ঐক্য বাংলা’।
এই প্রসঙ্গে ‘ঐক্য বাংলা’র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ঐক্যযোদ্ধা সৌম্য চৌধুরী জানান , ” আমরা সকাল থেকেই রবীন্দ্র সরোবরের বিভিন্ন গেটে নজর রাখছিলাম। তারপর আমরা দীর্ঘক্ষণ মেনকা সিনেমা হলের সামনের গেটে শান্তিপূর্ণ জমায়েত করেছি। আমরা গানের মাধ্যমেও আমাদের জমায়েতের উদ্দেশ্যটা স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম। পুলিশ ও প্রশাসন যেভাবে আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়েছেন তাতে আমরা আপ্লুত। ”

সম্মিলিত আন্দোলনের সুফলের কথা বলতে গিয়ে ঐক্য বাংলার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অভিজিৎ সরকার জানালেন , ” এই জয় আপামর বাঙালির জয়। আমরা প্রথম থেকেই বিষয়টা নিয়ে সরব হয়ে জনমত গঠন ও উপযুক্ত কর্মসূচি গ্ৰহণ করেছি। তারপরে অন্যান্য বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলোও তাদের মতো করে চেষ্টা করেছে। সুতরাং এই বিষয়ে আমরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও , সকলের অংশগ্রহণের ফলেই আজ রবীন্দ্র সরোবরে ছট হয়নি। সকলকে জানাই আমাদের বাংলাবাদী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।”

এছাড়াও এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উত্তরণ পাঠক, শৈবাল বোস, সৈয়দ শাহরুখ , সোহিনী সরখেল দাশগুপ্ত, অর্ঘ্যদীপ সেন , ইস্তাক লস্কর , রমিত কুমার রায় সহ অনেক সদস্য। সকলেই একটা বিষয়ে একমত হলেন ‘ঐক্য বাংলা’র অগ্রণী ভূমিকার ফলেই রবীন্দ্র সরোবরে এই বছর ছট পুজো হয়নি।

সুতরাং রক্ষা পেল রবীন্দ্র সরোবরের পরিবেশ , অক্ষুণ্ণ থাকল ‘কলকাতার ফুসফুস’। যেভাবে বাঙালির সম্মিলিত প্রতিবাদের ফলে এই বছর রবীন্দ্র সরোবর বহিরাগতদের তাণ্ডবের হাত থেকে রক্ষা পেল তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে যেভাবে এই বিষয়ে প্রথম থেকেই জনমত গঠন ও উপযুক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করে অগ্রণী ভূমিকা পালন করল বাংলার এই প্রথম মুক্তপন্থী বাংলা জাতীয়তাবাদী সংগঠনটি , তাতে এই ছোট্ট সংগঠনের ভাঁড়ারে যে আরো একটি সাফল্যের পালক যুক্ত হল সেই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ।

error: দয়া করে কপি করবেন না।