ক্রিমিয়ান তাতার: রাশিয়া কর্তৃক জন্মভূমি হারানো এক দূর্ভাগা মুসলিম জাতি


বি.বি নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ১৯৪৪ সাল, মে মাসের ১৮ তারিখ। কৃষ্ণ সাগরের তীরে ক্রিমিয়ান পেনিন্সুয়ালায় সন্ধ্যা নেমে এসেছে। সেই সাথে তাপমাত্রা কমে গিয়ে হাল্কা ঠাণ্ডা পড়ছে। রাত বাড়ার সাথে সাথে এখানে তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রীতে নেমে আসে।

২৭ হাজার বর্গকিলোমিটারের এই উপদ্বীপের মূল অধিবাসী তাতারী মুসলমানরা। এক সময় তাদের ক্রিমিয়ান খানাত ছিল। অন্যান্য ধর্ম এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতির মুসলমানরা থাকতো মিলেমিশে।

১৭৮৩ সালে রাশিয়ান এম্পায়ারের কাছে পরাজিত হওয়ার পর রাশিয়ার অধীনে চলে যায় ক্রিমিয়া, এরপরই কৃষ্ণ সাগরের তীরের অসম্ভব সুন্দর আবহাওয়ার মনোরম পরিবেশের এই দ্বীপে বসবাসের জন্য রাশিয়ানরা আসতে থাকে। এই সংখ্যা আরো বেড়ে যায় রাশিয়ান এম্পায়ার ভেঙে যখন কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ তাতারীরা পরিণত হতে থাকে সংখ্যালঘুতে। সোভিয়েত রাশিয়ায় মুসলমানরা পরিগণিত হয় স্টেট এনিমি হিসেবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্ট্যালিনের কমিউনিস্ট রাশিয়া এবং হিটলারের নাৎসি জার্মান বাহিনীর মধ্যে চলছে তুমুল যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ হয়ে উঠে দুই পরাশক্তির ব্যাটেল গ্রাউন্ড। ক্রিমিয়া যার দখলে থাকবে, বিশাল কৃষ্ণ সাগর থাকবে তার নিয়ন্ত্রণে। কৃষ্ণ সাগরের নিয়ন্ত্রণ লাভের জন্য ক্রিমিয়া খুবই গুরত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল। ১৯৪১ সালে সোভিয়েত রাশিয়াকে পরাজিত করে হিটলার ক্রিমিয়া দখলে নিয়ে নেয়। যুদ্ধের সময় ২ হাজার তাতারী যুবক যোগ দিয়েছিল হিটলারের পক্ষে, ২৫ হাজার যুবক যোগ দিয়েছিল স্ট্যালিনের পক্ষে। এরপর আবার ১৯৪৪ সালে জার্মানীকে হটিয়ে ক্রিমিয়ার দখল করে নেয় স্ট্যালিনের সোভিয়েত রাশিয়া।

১৮ মে, রাতের ঠাণ্ডা বাড়ছে। রেড আর্মির টহল মাঝেমধ্যে রাতের নীরবতা ভেঙে দিচ্ছে। মধ্য রাতের একটু আগে সাইরেন বাজিয়ে শত শত সেনাভর্তি গাড়ী এসে থামলো তাতার অধ্যুষিত এলাকাগুলোয়। রাতের নীরবতা ভেঙে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। যুদ্ধে আহত অনেক সোভিয়েত সেনার চিকিৎসা করছিল ক্রিমিয়ার তাতার কমিনিউটি।

মাঝরাতে অন্তত তিন জন করে সেনা এসে ঘরের দরজার ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে তুললো স্থানীয় অধিবাসীদের। বলা হলো- ১৫ মিনিটের মধ্যেই সবাইকে ঘর ছেড়ে যেতে হবে। কোথায়? তার কোনো উত্তর নেই। স্পীকারে ঘোষণা করা হলো- ১৫ মিনিট সময় দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ঘর ছাড়তে হবে প্রত্যেক তাতারকে। এমনকি যারা রাশিয়ান সেনাদের সেবা করছিল, তাদেরকেও। স্বয়ং জোসেফ স্ট্যালিনের কাছ থেকে এসেছে এই ফর্মান। কেউ এই আদেশ অমান্য করলে বা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাকে সেখানেই হত্যা করা হবে।

তাতারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলো, তারা হিটলারের পক্ষে লড়াই করেছে, এরা দেশের শত্রু।
এমনকি যে ২৫ হাজার যুবক রাশিয়ান আর্মিতে ছিল, রক্ষা পেলনা তাদের পরিবারও।

কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়া মাত্র ১৫ মিনিটের নোটিশে ঘর ছাড়লো তাতারী মুসলমানরা। প্রাণ বাঁচাতে এক কাপড়েই ঘর ছাড়তে হলো বেশীরভাগ মানুষকে। কেউ কেউ সংগের স্যুটকেসে, কাপড় আর টাকা নেয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বেশীরভাগ সেনারা তা করতে দেয়নি। তাই কোনো কিছু ছাড়াই একেবারে শূন্য হাতে ঘর ছাড়তে হলো তাদের। ঠাণ্ডার রাতে আড়াই লাখ মানুষ ছেড়ে গেলো তাদের ৯শ বছরের ভূমি। পড়ে রইলো ঘর, বাড়ী, সম্পদ, পশুর পাল। রেড আর্মির সদস্যরা শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ সবাইকে নিয়ে রাখলো একটি নির্দিষ্ট জায়গায়। যেখানে অপেক্ষা করছে মালবাহী ট্রেন। ট্রেনের প্রতিটা মালগাড়ীতে তোলা হলো ৩০০ করে মানুষ। এই ট্রেন গুলো দিয়ে মালামাল, গবাদি পশু ও শুয়োর পরিবহন করা হত।

সেই নোংরা ট্রেনে উঠানো হয় প্রতিটা মানুষকে। ৬৭টি ট্রেনে তুলে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হলো অজানা গন্তব্যে। একেকটি ট্রেন একেক দিকে চলে গেল। প্রতিটা ফ্যামিলীকে কয়েকভাগ করে তোলা হলো আলাদা আলাদা ট্রেনে। সার্বিয়া, উরাল কিংবা উজবেকিস্তানের দিকে ছুটে চলেছে ট্রেন। তবে ট্রেনের আরোহীরা কেউই জানেনা তাদের গন্তব্য। পুরো জনসংখ্যাকে খালি করা হলো একদিনেই।

১৮ থেকে ২২ দিন পর্যন্ত ছুটে চললো ট্রেন। এসময় ট্রেনের আরোহীদের মধ্যে কোনো খাবার দেয়া হয়নি, শুধুমাত্র পানি ছাড়া। ক্ষুধা সহ্য করতে না পেরে প্রতিদিনই মারা যেতে থাকে শত শত মানুষ। নোংরা ট্রেনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেকেই। ট্রেনের সাথে যাওয়া পাহারাদার সোভিয়েত সেনারা মাঝেমধ্যে চেক করতে আসতো। মারা গেলে ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়া হতো লাশ। কোনো জানাযা বা দাফন জুটেনি এইসব দূর্ভাগা মুসলমানদের কপালে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ছিল আরো ভয়াবহ। হালীফা ইয়াশ্লাবস্কির বয়স তখন মাত্র ছয়। তার মায়ের কোলে বসে এক টুকরো রুটির জন্য কান্না করছিল সে। তাদের ট্রেন যাচ্ছিল উজবেকিস্তানের দিকে। পথিমধ্যে ট্রেন কিছুক্ষণের জন্য থামলে হালিফার মা দেখতে পান পাশেই গম ক্ষেত। নিজের শিশু কন্যার ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে তাকে ট্রেনে রেখে পাশের ক্ষেত থেকে গম তুলে আনতে যান তার মা। গম নিয়ে আসার সময় এক রাশিয়ান সেনা সেটা দেখে ফেলে। ট্রেনের কোনো আরোহীর ট্রেন থেকে নামার অনুমতি ছিল না। হালিফার মাকে সেখানেই গুলি করা হয়। তারপর ট্রেন ছেড়ে দেয়। হালিফা জানেন না, তার মা মারা গিয়েছিল না তখনো বেঁচে ছিলেন। বেশীরভাগ মৃত তাতারদের লাশ শেয়ালের জন্য ফেলে রেখে যাওয়া হতো। হয়তো হালিফার মাও এক পাল শেয়ালের রাতের খাবার হয়েছিল!

২২ দিন পর তাদেরকে যেখানে নামিয়ে দেয়া হয়, সেটা ছিল মধ্য এশিয়ার সোভিয়েত ইউনিয়নের উজবেকিস্তানের একটি এলাকা। নামানোর পর তাদেরকে রাখা হয় লেবার ক্যাম্পে। যেখানে সবচেয়ে কষ্টের ও কঠিন কাজ গুলো করানো হতো তাদেরকে দিয়ে। কাজের চাপ সইতে না পেরে প্রতিদিনই মৃত্যুবরণ করতো অসংখ্য তাতার। কেউ কাজের অনোপযোগী হলে এমনিতেই গুলি করে মেরে ফেলতো সেনারা।

ক্রিমিয়ান তাতারদের ডিপোর্টেশনের সময় অর্থ্যাৎ ট্রেনে এবং সাইবেরিয়া ও উজবেকিস্তান আনার পর প্রতি দুজনের একজন করে মারা যায় অর্থ্যাৎ মোট জনসংখ্যার অর্ধেক তাতার মৃত্যুবরণ করে।

এটা ছিল জোসেফ স্ট্যালিনের এথনিক ক্লিনসিংয়ের একটি অংশ, যেখানে সর্বমোট ২.৫ মিলিয়ন মানুষ মারা যায়।

১৭৮৩ সালে ক্রিমিয়া উপদ্বীপের মোট জনসংখ্যার ৯৮% ছিল তাতারীরা। রাশিয়া কর্তৃক দখলের পর ১৮৯৭ সালে এসে তাতারীদের সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৩৪% এ। সোভিয়েতের ইউনিয়ন গঠনের পর তাতার পুরুষদেরকে জোর করে পাঠিয়ে দেয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলে। সেখানে ক্ষুধার তাড়নায় না খেয়ে মারা যায় ১ লাখ তাতার।

১৯৪৪ সালে ক্রিমিয়ায় তাতারীদের সংখাকে শূন্যে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় জোসেফ স্ট্যালিন।

ক্রিমিয়ার সব তাতারদেরকে মধ্য এশিয়াতে পাঠিয়ে দেয়ার দুই মাস পর অর্থ্যাৎ জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করে জানা যায়, আজব সাগরের (Azob Sea) পাড়ের আরাবাত নামক তাতারীদের একটি অঞ্চলের কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছিল সোভিয়েত আর্মি। ১১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ এবং ১৮ কিলোমিটারের প্রস্তের এই অঞ্চলের প্রায় সব মানুষই জেলে। তারা মাছ ধরে এনে জীবিকা নির্বাহ করে।

স্ট্যালিনের নির্দেশ পালনে ভুল করার তথ্য স্ট্যালিন পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই ক্রিমিয়ায় দায়িত্বে থাকা স্ট্যালিনের প্রতিনিধি সেনা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, তাদেরকে দুই ঘণ্টা সময় দেয়া হল। এর মধ্যে যেন আরাবাত খালি করা হয়। নাহয় গর্দান নেয়া হবে প্রতিটা সেনা এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের। শত কিলোমিটার দৈর্ঘের একটি অঞ্চল খালি করতে দুই ঘণ্টা যথেষ্ট নয় জানানোর পর তাদেরকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেয়া হলো।

১৯৪৪ সালের ১৯শে জুলাই, আরাবাতের সকল বাসিন্দাদের ধরে নিয়ে পুরনো কিছু কাঠের বোটে তুলে দিয়ে আজব সাগরে ভাসিয়ে দেয়া হয়।
নৌকায় যাদের তুলে দেয়া হয়েছিল, তাদের অধিকাংশই ছিল নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। নৌকা ডুবে গিয়ে তাদের কেউ আর সার্ভাইব করতে পারেনি, সবাই সাগরে ডুবে মারা যায়। কয়েকদিন পর আরাবাতের সমুদ্র সৈকত ভরে যায় লাশে। সাগরের ঢেউ মৃতদের লাশ নিয়ে এনে ফেলেছে সমুদ্র তীরে।

এই লাশ গুলোকে আবার পুঁতে ফেলার জন্য কিছু লোককে আনা হয়েছিল। তাদের একজন তার মৃত্যুর আগে লিখে যায় সে কী দেখেছিল!

মারা যাওয়াদের মধ্যে ছিল এক মা যে তার শিশুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। অনেক চেষ্টা করেও মৃত মা এবং তার শিশুকে আলাদা করতে না পেরে একসাথেই কবর দেয়া হয়েছিল তাদের।

অবশেষে ক্রিমিয়া তাদের মূল আদিবাসী তাতার শূণ্য হলো। তাতারী মুসলমানদের ফেলে যাওয়া ঘরবাড়ী গুলো দিয়ে দেয়া হলো রাশিয়ানদের।

১৯৬৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে নতুন আইন পাশ হলো। এই আইনে বলা হলো যেকোনো সোভিয়েত নাগরিক ইউনিয়নের যেকোনো অঞ্চলে গিয়ে তার বসতি স্থাপন করতে পারবে, এরজন্য আলাদা কোনো পারমিশনের প্রয়োজন হবেনা। তাতারীরা সেটাকে একটা সুযোগ হিসেবে দেখলো। উজবেকিস্তান থেকে তারা ক্রিমিয়ায় চলে আসার চেষ্টা করলো। কিন্তু দূর্ভাগা তাতারীরা জানতো না, এই আইন তাদের জন্য নয়। অনেকেই ঢুকতে পেরেছিল, কিন্তু বেশীরভাগ তাতারকে বর্ডার থেকে আবার ফেরৎ পাঠানো হয়েছিল। অন্যদিকে রাশিয়ানরা এসে দলে দলে বসতি স্থাপন করতে রাখলো অসম্ভব সুন্দর প্রকৃতির ক্রিমিয়া উপদ্বীপে। যেসব তাতাররা ঢুকতে পেরেছিল, তাদেরকে আবার দ্বিতীয়বারের মত বের করে দেয়া হলো ক্রিমিয়া থেকে।

তখন উজবেকিস্তানে তাতারীদের একটি সংগঠন প্রটেস্ট শুরু করলো। এই প্রটেস্ট ইন্টারন্যাশনাল এটেনশন পায়৷ ক্রমশ দূর্বল হতে থাকা সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৮৯ সালে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তাতাদেরকে ক্রিমিয়ায় ফিরে আসার অনুমতি প্রধান করলো। তাতাররা নিজ উদ্যোগে তাদের ছেড়ে যাওয়া জন্মভূমি ক্রিমিয়ায় ফিরে আসতে শুরু করলো। এসে দেখলো তাদের ফেলে যাওয়া বাড়ী গুলো আর এখন তাদের নেই, সেগুলোতে এখন থাকে রাশিয়ানরা। ফিরে আসা তাতারীরা জনশূন্য জায়গা গুলোকে বেছে নিল। সেখানে তারা তাবু ফেলে থাকার ব্যবস্থা করলো। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর ক্রিমিয়া যুক্ত হলো ইউক্রেনের সাথে।
এবার বাকী সব তাতার ফিরে আসা শুরু করলো।

৪৫ বছর নিজেদের হারানো মাতৃভূমিতে আবার ফিরতে শুরু করে ক্রিমিয়ার সন্তানেরা। বয়স্করা ততদিনে মারা গেছে। যুবকেরা বৃদ্ধ হয়ে গেছে। ফিরে আসার পর তাতারীরা তাদের পুরনো ঘরের দাবী ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তারা ভাবলো এই ঘর গুলো ফেরৎ নিলে রাশিয়ানদের একটি প্রজন্ম হোমলেস হয়ে পড়বে। আর হোমলেস হওয়ার কষ্ট তাদের চেয়ে ভালো আর কে জানে! তারা নিজেরাই ঘর তৈরীর সিদ্ধান্ত নিল। তাতারদের এই মাহাত্ম্য ক্রিমিয়ায় বসবাসরত রাশিয়ানদের স্পর্শ করেনি।

তাতারদেরকে নতুন জমি দেয়ার বিপক্ষে তারা রাস্তায় বিক্ষোভ করতে লাগলো। তাতারীদের নিজেদের উদ্যোগে বানানো ঘরবাড়ী ‘অনুমতি’ না নেয়ার অজুহাতে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো।

ক্রিমিয়ার প্রো-রাশান সরকার তাতারদের কেনা ঘরবাড়ীও বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিল।

কেন্দ্রীয় ইউক্রেন সরকার জমি এবং বিদ্যুতের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটা পূরণ করেনি। বেশীরভাগ তাতার বাস ঘরে বিদ্যুৎ বিহীন ঘরে। যেখানে তারা দিনে গরমে পুড়ে যায় আর রাতে ঠাণ্ডায় জমে যায়। তাদেরকে উচ্ছেদ করার জন্য ক্রিমিয়ায় নিয়মিত বিক্ষোভ করে রাশিয়ানরা। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় জ্বালানোর জন্য কাঠ থাকেনা তাদের। কারণ, সেটা কেনার মত যথেষ্ট টাকা তাদের নেই।

তাতারীদের নিজস্ব পরিচয়কে স্বীকৃতিদানের জন্য ১৯৯২ সাল থেকে ইউক্রেনের কাছে দাবী জানিয়ে আসছে তারা। কিন্তু বিনিময়ে পেয়েছে কেবলই প্রতিশ্রুতিই।

তারপরও তারা ইউক্রেনের কাছে কৃতজ্ঞ, অন্তত রাশিয়ার মত অবিচার তাদের উপর হচ্ছেনা।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর যে সব দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেগুলোর পুনঃদখলের একটি প্রচেষ্টা মস্কোতে বিদ্যমান। যার প্রথম অংশ হিসেবে সোভিয়েত থেকে সদ্য স্বাধীন হওয়া চেচনিয়ার নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে হত্যা করে চেচনিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া। মাত্র ৫ বছর স্বাধীন থাকার পর চেচনিয়া আবার রাশিয়ার দখলে চলে যায়।

প্রায় একইভাবে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় পুতিনের রাশিয়া। মাত্র তিনটি সীট পাওয়া রাশিয়ান ইউনিটি পার্টির সের্গেই আকসিয়ানভ পার্লামেন্ট ভবন দখল করে গণভোটের আয়োজন করে। সেখানে যোগ দেয়ার সুযোগ পান কেবল তার দাওয়াত পাওয়া আইনপ্রনেতারা। পার্লামেন্ট ভবন দখল করে রাখে মুখ ঢাকা রাশিয়ার স্পেশাল ফোর্স স্পেৎনাজ। একটি দেখানো গণভোটের আয়োজন করা হয়, যেখানে তাতারীদেরকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি। এই গণভোটের মাধ্যমে ক্রিমিয়া পুরোপুরিভাবে আবার রাশিয়ার দখলে চলে যায়। এবার ক্রিমিয়ান তাতারদের উপর শুরু হয়েছে রাশিয়ার নতুন ক্র‍্যাক ডাউন। এবার প্রাণ বাঁচাতে ক্রিমিয়া থেকে পালাতে হচ্ছে ক্রিমিয়ান তাতাদের। ভ্লামিদির পুতিনের রাশিয়া ক্রিমিয়ান তাতারদের কাছে যেন জোসেফ স্ট্যালিনের নতুন সোভিয়েত ইউনিয়ন।

This Bengali article is about Deportation of Crimean.

Reference:

1.Deportation of Crimean Tatars in 1944 was genocide

2.The Arabat Tragedy I: New Facts about the Mass Deportation of the Crimean Tatars

3. Deportation of Crimean Tatars remembered on 75th anniversary

4. Behind the Headlines: Who Are the Crimean Tatars?

5.Chatal Khaya Journal; Crimean Tatars, Exiled by Stalin, Return Home

6. For Crimean Tatars, it is about much more than 1944

error: দয়া করে কপি করবেন না।