শ্রদ্ধায় স্মরণে গোসাবা বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর



সেলিম হাসান, বিবি নিউজ ৩৬৫, চুনাখালি, গোসাবাঃ শ্রদ্ধায় স্মরণে মৌণ মিছিল করে স্মরণ করা হলো গোসাবার তিন বারের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তথা বাসন্তী-গোসাবার রাজনৈতিক অভিভাবক দাপুটে নেতা জয়ন্ত নস্কর কে। ২০২১ বিধানসভা ফলাফল ঘোষনার কয়েকদিনের মধ্যেই করোনা সংক্রমণ নিয়ে কোলকাতার এম-আর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে বেলভিউ নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়।

গত ১৯/০৬/২১ শনিবার শারীরিক অবস্থার ক্রমশ খারাপ হতে থাকে, ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা কে ব্যার্থ করে দিয়ে অগনিত কর্মী-সমর্থকদের ও পরিবারকে কাঁদিয়ে ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে চিরঘুমের দেশে পাড়ি জমান, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালীন বয়স হয়েছিল (৭৩). রেখে গেলেন স্ত্রী অনিতা নস্কর, দুই পুত্র বাপ্পাদিত্য ও বিক্রমাদিত্য, তিন মেয়ে মালবিকা, সুস্মিতা ও মধুমিতা কে। ২০/০৬ রবিবার সকালে মরদেহ প্রথমে নিয়ে যাওয়া গোসাবার তৃণমূল পার্টি অফিসে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। সেখানে অগনিত কর্মী-সমর্থক ও দলীয় নেতারা জয়ন্ত নস্করের মরদেহে পূষ্পার্ঘ অপর্না করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

তার পর মরদেহ নিয়ে আসা হয় নিজস্ব বাসভবন বগুলাখালিতে। সেখানে মন্দিরে মরদেহ শায়িত রাখা হয় পরিবারের সদস্যদের জন্য, পরে বাড়ির সামনেই রাস্তার উপরে দেহ শায়িত রাখা হয় আপামর কর্মী সমর্থক দের শেষ দেখার ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।সকলের জন্য শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন, পরিবহন প্রতিমন্ত্রী দিলীপ মন্ডল, সাংসদ শুভাশিষ চক্রবর্তী, বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস, সওকাত মোল্যা, পরেশ দাস, সাংসদ প্রতিমা মন্ডল ও বাসন্তী-গোসাবার বিডিও সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও অগনিত কর্মী-সমর্থক। মরদেহে পূষ্পমালা দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান বাসন্তী থানার আইসি আব্দুর রব খান।

তার পর বাড়ির সামনেই প্রবাহমান বিদ্যাধরী নদীর তীরের শ্বশানে জয়ন্ত নস্করের শেষ কৃত্য সম্পন্ন করা হয়। তাঁর অকাল প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। আকষ্মিক চলে যাওয়াতে গোসাবা-বাসন্তীতে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে অনেকটা ক্ষতি হয়ে গেলো তৃণমূল কংগ্রেসের বলে স্বীকার করেন তৃণমূল সাংসদ তথা দঃ ২৪ পরগণা জেলা সভাপতি শুভাশিষ চক্রবর্তী। বাম জমানায় বাসন্তীতে ১২টা জিপিএর মধ্যে একটি জিপি চুনাখালি(তৎকালীন কংগ্রেস) পরিচালিত জয়ন্ত নস্কর ধরে রেখেছিলেন। অনেক চেষ্টা করেও তার হাত থেকে চুনাখালিকে ছিনিয়ে নেওয়া যায়নি।

তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মের থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পথ চলা শুরু করেন। জয়ন্ত নস্করের প্রয়াণে এক মহা শুন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও তিনি ছিলেন গোসাবার বিধায়ক, কিন্তু গোসাবা সহ বাসন্তীর সাংগঠনিক ক্ষেত্র তার দ্বারা পরিচালিত হতো। সুত্রের খবর, গোসাবা বিধানসভা কেন্দ্র খালি হয়ে যাওয়াতে চুনাখালি অঞ্চল তৃণমূলের পক্ষ থেকে বড় ছেলে বাপ্পাদিত্য নস্করকে নেতা মেনে নিয়ে পথ চলা শুরু হবে ও আগামীতে তাকে বিধায়ক হিসাবে দেখতে চায় চুনাখালি তথা গোসাবার মানুষ। এখন দেখার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি করেন, জয়ন্ত নস্করের দলের প্রতি অবদান কে মাথায় রেখে ছেলে বাপ্পাদিত্য কে টিকিট দেন না অন্য কাউকে।

এদিন জয়ন্ত নস্করের স্মৃতিতে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে বড়িয়া পুকুরপাড়া ৮নং বুথ কমিটির পক্ষ থেকে জয়ন্ত নস্করের ছবি ব্যানার নিয়ে এক মৌণ মিছিল বের করা হয় চুনাখালি নাপিত পাড়া থেকে শুরু করে বড়িয়া বাজার হয়ে পুকুর পাড়া মহাপ্রভু আদিবাসী স্পোর্টিং ক্লাব প্রাঙ্গণে শেষ হয়। অসংখ্য মানুষ মুখে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় অশ্রু সজল চোখে এই মৌণ মিছিলে যোগ দেন। ছবিতে মালা ও পূষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান মৌন মিছিলে অংশগ্রহণ কারী অসংখ্য পুরুষ ও মহিলা। পরে এক মিনিট নীরবতা পালনের পর মৌন মিছিল সমাপ্তি হয়। উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক দেবাশীষ বৈরাগী, স্নেহাশীষ বৈরাগী, চিরঞ্জীত সরদার, মানস দাস সহ অন্যান্য ব্যাক্তিবর্গ।

error: