‘মুসলিম না বলে, ছাত্রী বললে খুশি হতাম’, আক্ষেপ উচ্চমাধ্যমিক টপার রুমানা সুলতানার



বি.বি নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: উচ্চমাধ্যমিকে সকল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে কাল থেকেই খবরের শিরোনামে আসেন মুর্শিদাবাদের রুমানা সুলতানা। কিন্তু তাঁর এই সাফল্যের সংবাদের সঙ্গেই শুরু হয়েছে আর এক বিতর্ক।

বিতর্কের কারণ হল, গতকাল তাঁর ফলাফল প্রকাশের সময় তাঁকে ‘মুসলিম’ বলে পরিচয় দেওয়া কি যুক্তিযুক্ত হয়েছে? এমনই প্রশ্ন উঠছে একাধিক জায়গা থেকে। যদিও এক সাক্ষাৎকারে রুমানা জানান, ‘মুসলিম না বললেই ভাল হত। একজন ছাত্রী বললেই বেশি ভাল হত। তবে আমি এটা নিয়ে কোনও বিতর্ক চাই না।’ পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক না করারও অনুরোধ করেন এই কৃতিছাত্রী।

প্রসঙ্গত, গতকাল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করতে গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের প্রধান মহুয়া দাস বলেছিলেন, ‘‘সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে একটা ইতিহাস সংসদে হয়েছে। সেটা একটু বলতে ইচ্ছে করছে। যিনি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন একা।’’

এরপরেই মহুয়া বলেন, ‘একক ভাবে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন এক মুসলিম কন্যা। মুসলিম… মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে একজন মুসলিম লেডি… গার্ল। তিনি একক ভাবে ৪৯৯ সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন।’ সংসদের প্রধানকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর নামটি কি বলা যাবে। তিনি জবাবে বলেন, ‘ওয়েবসাইট দেখে নেবেন।’

পরবর্তী সময় ওয়েবসাইট দেখা যায় এইবার উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম হন রুমানা সুলতানা। যদিও সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে উঠতে শুরু করে প্রশ্ন পাশাপাশি শুরু হয়ে বিতর্ক। যদিও কিছু সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু নেটিজেনদের বক্তব্য, একজন মুসলিম মেয়ে এত ভাল ফল করেছেন, সেটা অবশ্যই বলা উচিত।

কারণ, এখনও এ রাজ্যে মুসলিম মেয়ে এবং মহিলাদের অনেক বাধাবিপত্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। জীবনের অন্যান্য অনেক বিষয়েও মতো শিক্ষার ক্ষেত্রেও। আবার অন্য পক্ষের বক্তব্য, কেন ভাল ফলাফলের জন্য কোনও কৃতী পড়ুয়ার জাত বা ধর্ম বলতে হবে! তা করলে কি সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াকে আরও বিড়ম্বিত করা হয় না?

অন্যদিকে কান্দির রাজা মণীন্দ্রচন্দ্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী রুমানা। সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় খুশি পরিবার। রুমানার বাবা-মা উভয়েই সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে রুমানা বলেন, মাধ্যমিক ও একাদশের ফল ভালো ছিল। তাই এই ফল হয়েছে। একাদশে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন রুমানা।

error: