সিট আপডেট করে UPPER PRIMARY নিয়োগের দাবি নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দুয়ারে অভিভাবকগন



নিজস্ব প্রতিবেদনঃঃ লক্ষাধিক টাকায় উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা সহ B.Ed এবং TET পাশ Upper Primary ৮ বছরের বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের সর্বসান্ত,সংসারের বোঝা টানতে না পারা বৃদ্ধ অসহায় অভিভাবকেরা এবার সিট বৃদ্ধি করে নিয়োগের দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী দুয়ারে।

২০১৪ সালের নোটিফিকেশন অনুযায়ী ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট গৃহীত হয় উচ্চ-প্রাথমিক চাকরির পরীক্ষা। অথচ ২০২১ সাল অতিক্রান্ত প্রায়। এই দীর্ঘ ৭ বছর উচ্চ-প্রাথমিক স্কুল গুলিতে নিয়োগ না হওয়ায় যথেষ্ট শূন্যপদ সৃষ্টি হয়েছে।সম্প্রতি UNESCO Report অনুযায়ী রাজ্যে ১ লক্ষ ১০ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।

*প্রসঙ্গত, এটাই উচ্চ-প্রাথমিক স্কুল গুলিতে শিক্ষক নিয়োগের প্রথম পরীক্ষা।কলকাতা গেজেটে উল্লিখিত ইন্টারভিউ নেওয়ার ১৫ দিন আগে পর্যন্ত বর্ধিত শূন্যপদ যোগ হওয়ার কথা। অথচ West Bengal Central School Service Commission তা যোগ না করে পূর্ব ২০১৪ সালে ঘোষিত ১৪ হাজার ৩৩৯ টি শূন্যপদে চলতি আগস্ট মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শেষ করেছে। এমনকি ইন্টারভিউ প্রক্রিয়াতে যে ২৫০০ হাজার মতো শূন্যপদ খালি হয়েছে তাও পরবর্তী নিয়োগে যুক্ত হবে বলে ঘোষণা করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান। এমত পরিস্থিতিতে বর্তমানে কমিশন প্রকাশিত Not Included এবং Rejected List সহ অন্যান্য চাকরি প্রার্থী ও তাদের পরিবার পরিজন হতাশাগ্রস্ত।*

*তাদের জীবনের মূল্যবান দীর্ঘ ৮ বছরের সোনালী স্বপ্ন, মুহূর্ত গুলো শেষ হয়ে গেছে। পাশাপাশি পারিবারিক দায়ভার, মানসিক যন্ত্রণা, নানা জনের নানা কটূক্তি, তাচ্ছিল্য প্রভৃতিতে জর্জরিত হয়ে মৃত্যুর দিন গুনছেন।* এই যন্ত্রণা অভিভাবকেরাও আর সহ্য করতে পারছেন না।সন্তান মানুষ করার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না সেই চিন্তায় তারা আজ চিন্তিত,অবসাদগ্রস্ত। অনেক পিতা আবার কন্যা দায়গ্রস্ত।অনেকের দাবি তাদের কন্যা বিবাহ বিচ্ছেদের ফলে অনেকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।ফলে রাতের ঘুম উড়েছে অভিভাবকদের।

*চাকরি প্রার্থীদের বক্তব্য-বিকাশ ভবনের স্কুল শিক্ষাদপ্তরে RTI(Memo no.2049-GA/OM-21/2010 Dated 16/08/2019)মারফত New Setup School এর ৫১০৮ টি এবং School Service Commission কর্তৃক কোর্টে ঘোষিত ৫০০১ টি শূন্যপদের তথ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কমিশন তাদের বঞ্চিত করছে। তাদের দাবি একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাইমারিতে দ্বিতীয়বার নিয়োগ হলেও উচ্চ-প্রাথমিকে ৫১০৮+৫০০১+২৫০০=১২৬০৯ টি শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও তারা বঞ্চিত।তাছাড়া প্রত্যেক বছর নিয়মিত পরীক্ষা হলে তারা উপরের শূন্যপদ গুলিতে অনেকেই চাকরি পেয়ে যেতেন বলে মনে করছেন। এছাড়া নবম থেকে দ্বাদশ এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে মুখ্যমন্ত্রী সহ শিক্ষামন্ত্রী মানবিকভাবে নানা পদক্ষেপ নিলেও তাদের বিষয়ে কিছু ভাবা হচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ।*

*প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ইতিমধ্যে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে কৃষ্ণ ঘোষ, দেবদত্তা, অতনু মিস্ত্রি এবং সম্প্রতি বাবু দলুই সহ একাধিক চাকরি প্রার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।*

*দীর্ঘ হতাশা এবং যন্ত্রণাকে পাথেয় করে এই চাকরি প্রার্থীরা বর্ধিত শূন্যপদে নিয়োগের দাবিতে প্রথম ধাপে ১৬-৮-২০২১ তারিখ টুইট, ১৯-৮-২০২১ মেল, ২৬-৮-২০২১ পোস্টার কর্মসূচী,*
*দ্বিতীয় ধাপে ০২-৯-২০২১ এবং ০৩-৯-২০২১ তারিখ বিকাশ ভবন School Education Department , শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তর,Chief secretary(Nabanna),স্কুল সার্ভিস কমিশন সহ কালীঘাটে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার পর*
*তৃতীয়বার পুনরায় গত ২১-১০-২০২১ এবং ২২-১০-২০২১ তারিখ মেল ও টুইট কর্মসূচীর মাধ্যমে তাদের দাবি জানিয়েও আজও কোনো সদুত্তর মেলেনি।

*চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে এবার তাদের অভিভাবকরাও তাদের আবেদন জানালেন। তারা আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী দেশের বড়ো বড়ো সমস্যা সমাধানের আগে তাদের ছোট্ট সমস্যার সমাধান করবেন, পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফুটিয়ে দেশের সামনে কর্মসংস্থানের নজির গড়ে, বাংলাকে শিক্ষার মডেল হিসেবে তুলে ধরে মমতাময়ী রূপকে প্রতিষ্ঠা করবেন।*

error: