রেড শূন্য তবুও ভলেন্টিয়ার্সে সেঞ্চুরি! ওরাই আকাশে তুলেছে ঝড়! অক্সিজেন থেকে সব্জি রেড ভলেন্টিয়ার্স



 

জৈদুল সেখ, বহরমপুরঃরেড শূন্য তবুও ভলেন্টিয়ার সেঞ্চুরি! ওরাই আকাশে তুলেছে ঝড়! প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অক্সিজেন থেকে সব্জি পৌঁছে দিচ্ছে রেড ভলেন্টিয়ার্স।

মুর্শিদাবাদে গ্রাম থেকে শহর জুড়ে অক্সিজেনের জোগান দিতে একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে সিপিএমের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেড ভলেন্টিয়ার্স। শুক্রবার ঈদের দিন বহরমপুর থানার অন্তর্গত সাহাজাদপুর অঞ্চলের তিয়ার পুস্কুরনি গ্রামের নাজরুলের বাড়ি থেকে ফোন আসে ” আমার বাবার অবস্থা খুব খারাপ, অক্সিজেনের মাত্রা কম, বুক জ্যাম ধরে যাচ্ছে। ”
ঈদে সবাই যখন আনন্দে ব্যস্ত ঠিক তখনই দায়িত্ব কর্তব্যের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার কাদাজল ভাঙা পথ পাড়ি দিয়ে একদম বাড়ির দুয়ারে নয়, ঘরে অক্সিজেন পৌঁছে দিলেন যারা এবারের বিধানসভায় শুণ্য অর্থাৎ সেই সিপিএমের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেড ভলেন্টিয়ার্স। রেড ভলেন্টিয়ার্স সন্দীপন দাসের কথায় ” আমরা শূন্য এটা ঠিক কিন্তু মনে রাখবেন, শূণ্য কিংবা সেঞ্চুরি আমদের অর্থাৎ বামপন্থী সংগঠনের নিজস্ব দায়িত্ব কর্তৃত্ব রয়েছে, মানুষ যেখানে যখনই বিপদে পড়েছে সেখানেই আমরা ছুটে গিয়েছি। ”

গোটা পৃথিবীর বুকে নেমে এসেছে আকাল। গোটা পৃথিবীর তুলনায় একটা মানুষ নগণ্য কিন্তু যে মানুষ স্বপ্ন দেখে মানুষের পাশে থাকার সে বৃহৎ হয়ে যায় মানুষের সাথে মিশে থেকে । কবির ভাষায়
“মানুষ বড়ো কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও”

কী ভাবে কাজ করছে টিম রেড ভলান্টিয়ার?

সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফোন নম্বর দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে, দিন হোক বা রাত— যখনই কোনও প্রয়োজন হবে আক্রান্ত বা তাঁদের বাড়ির লোকজন যেন রেড ভলান্টিয়ারদের ফোন করেন। পাশাপাশি শহরে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে সদস্যেরা সেখানে যাবেন যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে। ভরসা দিয়ে বলা হচ্ছে, যে কোনও প্রয়োজনে রেড ভলান্টিয়াররা তাঁদের পাশে রয়েছেন। পরিবারের লোকজনের কাছে ফোন নম্বর দিয়ে আসা হচ্ছে।
করোনা আক্রান্ত ও তাঁদের পরিবারের উপরে পাড়া-পড়শিরা নানা ভাবে চাপ তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন জায়গা থেকেই। আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধ, পানীয়জল, খাদ্যসামগ্রী পেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে অনেককে। সামাজিক বয়কটের শিকারও হচ্ছেন কেউ কেউ। আক্রান্তদের হাসপাতালে যেতে গিয়েও দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এ বার করোনা আক্রান্ত ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সব রকমের সহযোগিতা করতে স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করল সিপিএম।

উল্লেখ্য রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের কান্দিতে গত শুক্রবার এরিয়া কমিটির সম্পাদক স্বরুপ মুখার এর কাছে ফোন আসে আন্দুলিয়া অঞ্চলের দুর্গাপুর নিবাসী অষ্টমি ঘোষ এবং তার পরিবার করোনা আক্রান্ত বাড়িতে প্রয়োজনীয় সবজি নেই রান্না করার। তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করেন রেড ভলেন্টিয়ার এর তরফ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস করোনা আক্রান্তের বাড়িতে পৌঁছে দেন। তাছাড়া কান্দি হসপিটালে অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনীয় রেট জেনে অ্যাম্বুলেন্স গাড়িকে কেন্দ্র করে যে দালালেরা সাধারণ মানুষের কাছে টাকা বেশি নিতে না পারে সেই ব্যবস্থা করে এসেছে।

রঘুনাথগঞ্জ ব্লকের কানুপুর অঞ্চলের ঘোরশালা গ্রামের বাসিন্দা, শ্যামল দাস বয়স ৪৬ বছর করোনা আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে ছিলেন, উনার বাড়িতে বয়স্কা মা আর উনি আর কেউ নেই। হসপিটালে ভর্তি হওয়ার জন্য কাউকে পাচ্ছিলেন না, তার পর রেড ভলেন্টিয়ার্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সঙ্গে সঙ্গে রঘুনাথগঞ্জ রেড ভলেন্টিয়ার্স অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে গিয়ে উনার বাড়ি থেকে নিয়ে এসে রাত্রি ১২.৭ এ জঙ্গিপুর মহুকুমা হসপিটালে ভর্তি করান।

কালোমেঘ তখন জমাট বাধতে শুরু করেছে রঘুনাথগঞ্জ শহরের দক্ষিণ কোণে । মানুষজন ফিরে যাচ্ছে বাড়ি ঝড় আসতে পারে খুব জোর। ঠিক তখন দুজন বাইকে করে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে বেশ দ্রুত গতিতে চলেছে রঘুনাথগঞ্জের থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে সামশেরগঞ্জ এর নিমতিতা।

এদেরকে দেখেই মাথায় আসে এদের দল সিপিএম শুন্য ! ওলট পালট হয়ে গেছে সব হিসেব! কিন্তু হারিয়ে যায়নি। মানুষের পাশে থেকে এভাবেই রেড ভলেন্টিয়ার্স সেঞ্চুরি হাকাচ্ছে। কারণ ওরা লাল স্বেচ্ছাসেবক ওদের চেতনা লাল।

error: