মহাকাশ নিয়ে গবেষণায় স্বীকৃতি পেলেন যাদবপ‍ুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়ীদুল ইসলাম


বি.বি নিউজ ওয়েবডেস্ক, নভেম্বর ২১, ২০২০ঃমহাকাশের ‘ওয়ার্মহোল’, ‘ব্ল্যাকহোল’ ও ‘গ্রাভাস্টার’ নিয়ে তাত্বিক গবেষণায় স্বীকৃতি পেলেন সায়ীদুল ইসলাম। এই গবেষণায় সফল হওয়ায় তাঁকে পিএইচডি ডিগ্রি দিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে খ‍ুবই আকর্ষণীয় গবেষণার বিষয় হল ওয়ার্মহোল, যেটি এই মহাবিশ্বের দু’টি স্থানের মধ্যে শর্টকাট পথ। এই ওয়ার্মহোলের অস্তিত্ব গ্যালাক্সির ভিতরে আছে, যা সম্প্রতি অধ্যাপক ফারুক রহমানও প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

তাঁর গবেষণা প্রসঙ্গে ড. মুহাম্মদ সায়ীদুল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালে একটি নতুন গ্যালাক্সির আবিস্কার হয়। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ড্রাগনফ্লাই ৪৪ গ্যালাক্সি’। এই গ্যালাক্সির ভিতরে ওয়ার্মহোল আছে কি না, তার পিএইচডি গবেষণার একটি অন্যতম বিষয় ছিল। তাঁর গবেষণায়, ড্রাগনফ্লাই ৪৪ গ্যালাক্সি’তে ওয়ার্মহোলের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর এই গবেষণার বিষয়বস্তুটি খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

মহাকাশে ব্ল্যাকহোলের বিকল্প রয়েছে কী না সেই নিয়ে তিনি গবেষণা করেন। তিনি বলেন, ব্ল্যাকহোলের বিকল্পের নাম ‘গ্রাভাস্টার’। মহাকাশে ব্ল্যাকহোলের বিকল্প রয়েছে কি না তার তাত্ত্বিক গবেষণাও করেছেন। যা তাঁর ‘পিএইচডি থিসিস’-এর অন্যতম একটি বিষয় ছিল। সেই ব্ল্যাকহোলের বিকল্পের নাম গ্রাভাস্টার। তিনি এ নিয়ে গবেষণা করে একটি মডেল দিয়েছেন।

ড. সায়ীদুলের গবেষণার আর একটি দিক ছিল ব্ল্যাক হোলের শক্তি নির্ণয় করা। তাঁ এই গবেষণার কাজে দেশ বিদেশের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রোমানিয়ান অধ্যাপক রেডিনসচি, তুরস্কের অধ্যাপক হালিশয়, সাউথ আফ্রিকার অধ্যাপক মেগান প্রম‍ুখ। মূলত এই সব কাজের স্বীকৃতি দিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি তাঁকে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে।

ড. সায়ীদুল ইসলাম হাওড়ার আল আমীন মিশনের একজন প্রাক্তন ছাত্র। তাঁর এই সাফল্যের জন্য মিশনের সাধারণ সম্পাদক এম নুরুল ইসলামকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি সব শিক্ষককের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সায়ীদুলের আব্বা আলহাজ্ব মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান ছিলেন হাইমাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষক। মা সাহিনা বেগমের অবদানও উল্লেখযোগ্য।

সূত্র, পুবের কলম

error: দয়া করে কপি করবেন না।