বিবিসি’র প্রভাবশালী ১০০ জন নারী তালিকায় শাহীনবাগের দাদি খ্যাত বিলকিস বানু স্থান পেলেন



বি.বি নিউজ ডিজিটাল ডেস্কঃ বিবিসি’র বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ জন নারী তালিকায় শাহীনবাগে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ৮২ বছর বয়সী বিলকিস বানু স্থান পেলেন। যিনি শাহিনবাগের বিলকিস দাদি নামেই অধিক পরিচিত। উল্লেখ্য টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ জন প্রভাবশালীর তালিকায়ও তিনি ঠাই পেয়েছিলেন।

কেন্দ্র সরকারের সি এ আইনের বিরুদ্ধে দিল্লির শাহীনবাগে টানা ১০১ দিন অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়েছিলেন সি এ এ বিরোধীরা। প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত অবস্থান বিক্ষোভে ছিলেন ৮৬ বছরের বিলকিস বানো।

বয়সকে উপেক্ষা করে আপন ব্যক্তিত্বে উজ্জ্বল দাদি বিলকিস বানো’র প্রতি রইলো ‘অন্যরকম’-এর শ্রদ্ধা।

তালিকায় যাদের নাম আছে এমন কয়েকজন
বিবিসি বলছে এবার একশ নারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে বিষয়টিতে হাইলাইট করেছে তা হলো যারা পরিবর্তন আনতে নেতৃত্ব দিয়েছন এবং মহামারির এই কঠিন সময়েও তাদের কাজের মাধ্যমে নিজেদের আলাদা করতে সক্ষম হয়েছেন।

মূলত তিনি সিএএ বিরোধী আন্দোলনের মুখ হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিত। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি সোমবার ২০২০ সালের জন্য বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী মহিলাদের তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে ৮২ তম স্থান করে নিয়েছেন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে শাহিনবাগের বিক্ষোভ আন্দোলনের মুখ ৮২ বছর বয়সি বিলকিস দাদি।

বিলকিস দাদি বিবিসির তালিকার চলে এসেছেন প্রথম কুড়ির মধ্যে। তালিকার ১৫ নম্বর স্থানে আছেন তিনি। মহিলা নেতৃত্বদানকারী তার সঙ্গে আরও তিনজন জায়গা করে নিয়েছেন তারা হলেন সংগীতশিল্পী ইসাইওয়ানি, প্যারা-অ্যাথলেট মানসী জোশী এবং জলবায়ু কর্মী রিধিমা পান্ডে। যদিও গত বছর বিবিসির তালিকায় ভারতের আটজন মহিলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

তবে, বিলকিস দাদিকে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভের মুখ্ হিসেবে বর্ণনা করার সঙ্গে সঙ্গে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক রানা আইয়ুব তাকে যে “প্রান্তিকের কণ্ঠস্বর” অভিহিত করেছেন সেকথা বিবিসি তার ভূমিকায় উল্লেখ করেছে।

বিবিসি তার ভূমিকায় লিখেছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মোদি সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে নয়াদিল্লির শাহিনবাগের মুসলিম অধ্যুষিত জনপদে একটি রাস্তায় মহিলাদের মাসব্যাপী বৈঠকে অংশ নেন বিলকিস দাদি। এই আইনে প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে আসা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও বাদ দেওয়া হয় মুসলিম শরণার্থীদের। আর তা সাংবিদানিক মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে বলে অভিযোগ তুলে শাহিনবাগে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ হয়। যা পরে দেশজুড়ে প্রসারিত হয়।

তালিকায় আছেন ফিনল্যান্ডের কোয়ালিশন সরকার যার প্রতিটি সদস্য নারী তার প্রধান স্যান্না ম্যারিন এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা ভাইরাস টিকা গবেষণা দলের প্রধান সারাহ গিলবার্ট।

পাকিস্তানী অভিনেত্রী মাহিরা খান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দারিদ্র বিমোচন বিষয়ক বিশেষ সহকারী সানিয়া নিশতার।

আরও অনেকে সুপরিচিত ব্যক্তিত্বের সাথে এ তালিকাতেই ঠাঁই পেয়েছেন বাংলাদেশের রিনা আক্তার ও রিমা সুলতানা রিমু।

মাহিরা খান:
পাকিস্তানের অভিনেত্রী। তিনি যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার।

রং ফর্সাকারী ক্রিম প্রত্যাখ্যান করা মাহিরা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে সমর্থন করেন। তিনি সামাজিক সমস্যা সংক্রান্ত ইস্যুগুলোকে মোকাবেলা করতে এগুলো সিনেমা ও টিভিতে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে আগ্রহী।

তিনি জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনারের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করছেন।

ডঃ সানিয়া নিশতার
মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং এমন আর কিছু মাধ্যমে লাখ লাখ পাকিস্তানীর জীবনমান উন্নত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ডঃ সানিয়া নিশতার।

এছাড়া একশ নারীর তালিকায় আরও যাদের নাম আছে তাদের মধ্যে আছেন ইথিওপিয়ার ফুটবলার লোজা আবেরা জেইনোর, সিয়েরা লিওনের মেয়র ইয়ভনে আকি সাভিয়্যের, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রী সারাহ আল আমিরি, সিরিয়ার চলচ্চিত্র নির্মাতা ওয়াদ আল কাতিয়াব, যুক্তরাষ্ট্রের অভিনেত্রী জেন ফনডা এবং যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানী সারাহ গিলবার্ট।

error: