মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রবণতা কমাতে কেরলে পৃথক কোর্টের ভাবনা পিনারাই সরকারের



বি.বি নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: ঘরে-বাইরে কোথায় নিরাপদ মহিলারা? এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। মহিলা কমিশনে যে হারে অভিযোগ জমা পড়ে, তাতে বলাই যায়, মেয়েদের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তার অবকাশ আছে। মেয়েদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রবণতা কমাতে পদক্ষেপ করতে চলেছে কেরলের সরকার।

মেয়েদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের দ্রুত বিচার পেতে পৃথক কোর্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন এক বিবৃতিতে বলেন, মহিলাদের ওপর অপরাধ প্রবণতা কমাতে সরকার পৃথক কোর্ট তৈরি করার কথা ভাবছে। যাতে দ্রুত বিচার পেতে পারেন মহিলারা। ঘরেও কি মহিলারা সুরক্ষিত? ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের অভিযোগ জমা পড়ে থানা থেকে শুরু করে মহিলা কমিশনেও।

এ প্রসঙ্গে বলা দরকার, মহিলাদের সুরক্ষায় বাড়তি নজর দিয়ে পিনরাই সরকার কি নারীদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে চাইছেন? বাংলায় মহিলাদের সমর্থন তেমন জোটেনি তাদের। মহিলাদের বড় অংশই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। দলের নির্বাচনী পর্যালোচনায় সেই বাস্তব স্বীকারও করে নিয়েছে বঙ্গ সিপিএম। বাংলায় আলাদা কোনও পরিকল্পনা তৈরি না হলেও মহিলাদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে কেরলে বিশেষ অভিযান শুরু করতে চলেছে সিপিএম।

কেরল সিপিএমের এমন পদক্ষেপের পিছনে অবশ্য ভোটের কোনও যোগসূত্র নেই। রাজ্য জুড়ে মহিলাদের উপরে নির্যাতন ও হিংসার ঘটনা বেড়ে চলার প্রেক্ষিতেই আগামী ১ জুলাই থেকে ‘নারী-বান্ধব কেরল’ কর্মসূচির ডাক দিতে হয়েছে পিনারাই বিজয়নের দলকে। নারী নির্যাতনের একটি ঘটনা এবং তার জেরে তৈরি হওয়া জনরোষ সামাল দিতে কেরলে রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন এম সি জোসেফিনকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেছে সিপিএম।

শুধু ওই একটি ঘটনাতেই বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ না রেখে সার্বিকভাবে পরিস্থিতি বদলানোর লক্ষ্যে পৃথক কর্মসূচি নিচ্ছে শাসক দল। এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে এক দিকে যেমন রাজ্য জুড়ে নারী সুরক্ষা এবং মহিলাদের মর্যাদা সংক্রান্ত প্রচার চলবে, তেমনই এলাকা ভিত্তিতে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগে যাবেন শাসক দলের কর্মীরা।

error: